টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় এ বছরে প্রাণহানি ৭৯ জন

0
50

টাঙ্গাইল জেলার সড়কগুলোতে কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিনই কোননা কোন স্থানে ঘটছে ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা। টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নথিভুক্ত থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় ৭৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। তবে সব দুর্ঘটনায় যে থানায় মামলা হয়েছে তা বলা যায় না। এ বছরে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দু’মাস যানবাহন বন্ধ থাকার পরেও গত বছরের তুলনায় সড়কে প্রাণহানি বেড়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছে বিশিষ্টজনরা। এসব দুর্ঘটনার পিছনে মহসড়কে অনিয়ম বাড়তে থাকাকেই দায়ী করছেন লোকজন। মহাসড়ক গুলোতে যত্রতত্র বাস দাঁড় করিয়া যাত্রী উঠানো নামানো, উল্টোপথে যান চলাচল, নিষিদ্ধ থ্রি হুইলার, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, ইজিবাইক ও ব্যাটারী চালিত রিক্সাগুলো অবাধ চলাচল, ফিটনেচ বিহীন যান চলাচল, রাস্তা পারাপারে পথচারী- সেতু না থাকা, ট্রাকে ও বাসের ছাদে যাত্রী পরিবহন, পাল্লা দিয়ে গাড়ী চালানো, অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রণহীন মোটর বাইক চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ বাক গুলোতে ওভার টেকিং, রাস্তার উপরে গাড়ী পার্ক করে রাখাসহ বিভিন্ন কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (বিআরটিএ) টাঙ্গাইল কার্যলয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলায় বিভিন্ন স্থানে ৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১১২ জনের প্রাণহানি হয় এবং আহত হন ৪০ জন। আর ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দুর্ঘটনা ঘটে ৪৪টি এতে নিহত হয়েছে ৪৪ জন এবং আহত ১২৭ জন। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনা তুলনামূলক ভাবে বেড়েছে। তবে এই সংখ্যা শুধু থানায় মামলা করার সূত্রে লিপিবদ্ধ করা। প্রকৃত দুর্ঘটনার হিসাব বের করা সম্ভব হলে এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ টাঙ্গাইল সার্কেল এর মোটরযান সহকারী পরিদর্শক মোঃ আবু নাঈম। জেলায় দুর্ঘটনা যেভাবে বাড়ছে সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ সেভাবে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। বিআরটিএ ও পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছেন, ট্রাফিক আইন না মেনে চলার কারণে এসব দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। সম্প্রতি সরেজমিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল-জামালপুর, এলেঙ্গা-ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল-সখীপুর, বাসাইল, টাঙ্গাইল-গোপালপুর আঞ্চলিক সড়কগুলোতে বেশ কিছু অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। এই আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর নিয়ম ভাঙ্গার প্রতিযোগিতা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। এ মহাসড়কটি দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সিলেট উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন সড়কের প্রায় ১০ হাজার যানবাহন চলাচল করে প্রতিদিন। বেশ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে চললেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এনজিও কর্মী আদিল বলেন, গাড়ী চলাকালে কোন ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করেই বেপরোয়া ভাবে গাড়ী চালায়। এর ফলেই দুর্ঘটনা গুলো ঘটছে। এ বিষয়ে কথা হয় কয়েকজন চালকের সাথে বিমিয়র গাড়ীর চালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, সড়কে নিষিদ্ধ থ্রি হুইলার যানচলাচলের সড়কের দুর্ঘটনাগুলোর জন্য দায়ী। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক বাড়ছে, গাড়ী বাড়ছে, মানুষও বাড়ছে, কিন্তু ট্রাফিক আইনের প্রতি না আছে মানুষের, না আছে গাড়ী চালকে শ্রদ্ধা ও সচেতনতা। যার কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা বাড়ছে সড়কগুলোতে। এছাড়া গাড়ীর ফিটনেস, চালকদের অদক্ষতা এবং পথচারীদের অসচেতনতার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কের নতুন আইনে চালকদের এবং যাত্রীদের মাঝে সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। মহাসড়কের দুর্ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য সড়কগুলো টহল দিচ্ছে পুলিশ পেট্রোলদল পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশও নিয়োজিত আছে। এক কথায়, চালকের দক্ষতা এবং পথচারী সচেতনতাই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সভাপতি ও বাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড়মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সড়ক-মহাসড়কগুলো প্রশস্ত হচ্ছে। আগের চেয়ে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে আসছে। নতুন আইনে আমাদের সচেতন হতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
এ বছরে সর্বশেষ বড় দুটি দুর্ঘটনা ঘটে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরের কুর্নি এলাকায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৬ জন এবং টাঙ্গাইল বাইপাস ঘারিন্দা এলাকায় দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়। বাসাইলে সিএনজি চাপায় ১জন মাদ্রাসা ছাত্রী। কালিহাতীতে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে ২জন নিহত হয়েছে। এবং তার আগে নভেম্বর মাসে শেষ সপ্তাহ নাগরপুরে ট্রাকের ধাক্কায় ৩ জন, ঘাটাইলে সিএনজি দুর্ঘটনায় ২জন, গোপালপুর ১জন শিক্ষক এবং মধুপুরে ২জন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়। এ প্রসঙ্গে বিআরটিএ টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আবু নাঈম দাবী করেন, তারা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। সড়কে আইন রোধে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। লাইসেন্স ও ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here